আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহৃত হয়

 প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কী:

রাষ্ট্রব্যবস্থার চালিকা শক্তি হলাে প্রশাসনিক| আধুনিক

প্রশাসনব্যবস্থা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা| অতএব এই

শাসনব্যবস্থা জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থঅ| সরকার তার ক্রিয়াকলাপের স্বচ্ছতা যেমন জনসমঙ্গে বজায় রাখবে তেমনি

কৃতকর্মের জন্য জনগণের নিকটও জবাবদিহিতা থাকবে|

আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহৃত হয়

সমাজ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য

| অপরপড়ে, যারা রাষ্ট্রের প্রশাসক হিসেবে প্রশাসন

পরিচালনা করেন, তারাও এই সমাজের নাগরিকদের কল্যাণের নিমিত্তে সিদ্ধান্ত্র গ্রহণ এবং বাত্মবায়নের কাজে সরাসরি নিয়ােজিত থাকেন| একাজে সমাজের সাধারণ মানুষের সরাসরি কোনাে সম্পৃক্ততা নেই|22

প্রশাসকগণ এই কাজে নিয়ােজিত থাকেন এবং বিনিময়ে রাষ্ট্র

কর্তৃক আর্থিক ও অনুঅন্য সুযােগ সুবিধা ভােগ করে থাকেন| এসব প্রদেয় আর্থিক ও অন্যান্য সুযােগ সুবিধা জনগণের পত্যঙ্গ অর্থে মেটানাে হয়| অর্থাৎ একদল দড়া, অভিজ্ঞ লােক জনগণের সার্বিক কাজে নিয়ােজিত থাকেন| বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক সহ নানাবিধ সুযােগ-সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন| এই একদল অভিজ্ঞ, দঙ্গ লােক হলেন প্রশাসক যারা প্রজাতন্ত্রের স্থানীয় কর্মচারী| যেহেতু জনগনের অর্থে, জনগণের জন প্রশাসন সেহেতু প্রমাসকগণের কর্মপ্রক্রিয়া এবং কর্ম

সম্পর্কে জনগণের জানবার অধিকার অবশ্যই থাকা উচিত

এবং এই জবাবদিহিতা প্রশাসন সম্পর্কিত বিধায় একটি

প্রশাসনিক জবাবদিহিতা|

জবাবদিহিতার প্রকৃত অর্থ হলাে তার নিচের সম্পাদিত কর্ম

সম্পর্কে অন্যের কাছে ব্যাখ্যা দানের বাধ্যবাধকতা| আমলাদের

নির্ধারিত সম্পদ এবং কর্তৃত্বসীমার মধ্যে থেকে অর্জিত ও স্বীকৃত দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বাধ্যবাধকতা হলাে প্রশাসনিক

জবাবদিহিতা|

অর্থাৎ একজন প্রশাসক যখন তার কর্মসম্পাদন করেন তখন

অবশ্যই তিনি অনিয়ন্ত্রিতভাবে যা খুশি তাই করতে পারেন না| আইনানুগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে তার কর্তৃত্বের সীমারেখা লঙ্ঘন না করে তিনি কর্ম সম্পাদন করবেন এটাই সংবিধানের দারা| প্রমাসনে জবাবদিহিতা না থাকলে প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে| স্বেচ্ছাচারিতার সৃষ্টি হয়, অদঙ্গতা পরিলড়িত হয়| ফলে প্রশাসনব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে| জনগণ সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে নিপতিত হয়| সুতরাং একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়| আধুনিক সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা একটি অত্যন্ত্র

গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়|

24

প্রশাসনকে জবাবদিহি করার কতগুলাে পদ্ধতি রয়েছে| পদ্ধতিগুলােকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়

১.আনুষ্ঠানিক কাঠামাে, ২.অনানুষ্ঠানিক কাঠামাে|

অনানুষ্ঠানিক কাঠামােসমূহকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়

ক. নৈতিকতা, খ. গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ, গ. জনমত, ঘ. প্রচার

মাধ্যম, ঙ. ধর্মীয় অনুভুতি|

প্রশাসনকে জবাবদিহি করার জন্য এই বিষয়গুলাে বা কাঠামাে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারে| এসব অনানুষ্ঠানিক কাঠামােসমূহ হলাে দীর্ঘ দিনের অভ্যাস এবং সভ্যতার ফসল

যা কালক্রমে আবর্তিত| এছাড়াও যেকোনাে দেশের প্রশাসনকে

25

জবাবদিহি রাখার জন্য কতগুলাে প্রতিষ|ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্তৃপঙ্গ থাকে| এই আনুষ্ঠানিক কর্তৃপড়াসমূহ হলাে

ক. প্রশাসনিক কর্তৃপঙ্গ, খ. আইনসভা, গ. বিচার বিভাগ|

প্রশাসনিক কর্তৃপড়া হলেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা| পৃথিবীর অনেক দেশের মতাে বাংলাদেশেও যে আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন রয়েছে

তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলাে পদসােপান| প্রত্যেক সংগঠনের পদসােপানভিত্তিক বিন্যাসের মধ্যে নিকটতম উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকট কাজের ব্যাখ্যা বা জবাবদিহিতা এই পর্যায়ের

অত্মর্ভূক্ত| উধ্বর্তনের নিকট জবাবদিহিতার প্রকৃতি নিম্নরূপ

হতে পারে

ক. উর্ধ্বতন দপ্তরের নিকট অধস্তন দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কিত লিখিত প্রতিবেদন প্রেরণ|

খ. উর্ধ্বতন দপ্তর কর্তৃক অধস্তান দপ্তর পরিদর্শন ও আর্থিক

ব্যয়ের নিরী|

গ. রম্নলস অব বিজনেস|

ঘ. সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালা|

ঙ. অডিট ইত্যাদি|

27

বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা

প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের লক্স্যে প্রাতিষ্ঠানিক বহুবিধ

উপাদান বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে| এঙ্গেত্রে সর্বাগ্রে প্রশাসনিক ঘােষণাপত্রের কথা উলেস্নখ করা

যায়| সরকারের সকল সিদ্ধান্ত্ম, কর্মপ্রক্রিয়া, সরকারি

কর্মচারীদের বদলি, প্রয়ােগ, অপসারণ, আদেশ, আইন প্রভৃতি জনগণের সামনে সুস্পষ্ট রূপে তুলে ধরার জন্য সরকারি

গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়|

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রদান করার দ্বিতীয় উপাদন হরাে সংশিস্নষ্ট

আই আইনের শাসন বলবৎ করা হলে যে কোনাে ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে আদালতে আইনের আশ্রয় য়াে হলে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তা নােটিশের মাধ্যমে অবহিত করে এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার গুরম্নত্বপূর্ণ সিদ্ধাত্ম| কিন্তু বাংলাদেশের

28

প্রশাসনব্যবস্থায় আইনের শাসনের কার্যকারিতা সর্বত্র

পরিলতি হয় না||

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বিধানের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ সভায় গৃহীত সিদ্ধাত্মের কথাও উলেস্নখ করা যেতে পারে| মন্ত্রিতষভায় যে সকল সিদ্ধান্ত্র গ্রহণ করা হয়, তা সবই গােপনীয়, শুধুমাত্র

মন্ত্রী এবংসচিবগণ যারা শাসন বিভাগের সদস্য তারাই

আলােচনায় অংশ নেন এবং আলােচ্য সূচি সম্পর্কে অবহিত হন| সাধারণত মন্ত্রিসভায় গৃহীত সকল সিদ্ধানই সংসদে

উত্থাপন করা হয়ে থাকে এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণ

যারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি তারা সকলেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়ে তাদের সম্মতি কিংবা অসম্মতি প্রকাশ

করেন| কিন্তু এ প্রসঙ্গে উলেস্নখ্য যে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনাে সংসদ সদস্ৰ নিজ দরের কোনাে সিদ্ধাত্ম কিংবা দল কর্তৃক উত্থাপিত অনুচ্ছেদে বলা

হয়েছে, কোনাে সংসদ সদস্য নিজ দলের কোনাে সিদ্ধাত্ম কিংবা দল কর্তৃক উত্থাপিত কোনাে বিলের বিপঙ্গে ভােটদান

করলে অথবা সংসদে উপস্থিত থেকে নিজ দলের বিলে ভােটদানে বিরত থালে সংসদে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে| প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান এবং একই সাথে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলেরও প্রধান| আর মন্ত্রীদের সভায় গৃহীত বিল যখন সংসদে উত্থাপিত হয় তখন দরের কোনাে সদস্যের

পড়েই উত্থাপিত বিলটির বিরােধিতা করা সম্ভব নয়| ফরে

এখানে এক ধরনের দলীয় স্বৈরতন্ত্র বিরাজ করে এবং এ কারণে।

মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের সাথে প্রতিভাত হয় না|

সুতরাং বাংলাদেশের প্রমাসনকে যথাযথভাবে স্বচ্ছ বলা যায় না| |

কারণ এখানে বাজনীতি চর্চা তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি| উন্নত দেশে যেখানে শিল্প ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে যােগাযােগ ব্যবস্থা হয়েছে উন্নত, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা

30

আছে এবং রাজনীতি ও প্রিগতি শীল| দুএকটি ব্যতিক্রম ব্যতিত সেসব দেশে প্রশাসন অনেক স্বচ্ছ| বাংলাদেশে এসব

উপাদানের অভাব থাকায় এখানকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা

এখনও আশাব্যঞ্জক নয়| তবে বাংলাদেশের প্রশাসনিক

অস্বচ্ছতা দূরীকরণের প্রচেষ্টা আনয়নের জন্য দুটি পদক্সেপ

গহণের সুপারিশ করা যেতে পারে।

প্রথমত, সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি,

দ্বিতীয়ত, সরকারি কর্মসম্পাদন কমসূচি||

রাষ্ট্রের পরিধির বিস্তৃতি এবং বিপুল জনসংখ্যার ফলে অন্য সকল রাষ্ট্রের মতােই বাংলাদেশ সরকারের কাজের পরিধি অনেক ব্যাপকতা লাভ করেছে| এই ব্যাপক কর্মসংক্রান্ত্ম সিদ্ধান্ত্র প্রতিটি জনগনের দোরগােড়ায় পৌঁছে দিয়ে সরকারি

সিদ্ধান্ত্মসমূহ স্পষ্ট করে তােলা সম্ভব নয়| এটা সম্ভবপর করে

Leave a Comment