মানুষের চাওয়া পাওয়াকে মূল্য দিতেন তাদের সময়ে মানুষ অনেকটা শান্তিতেই ছিল

 মানুষের চাওয়া পাওয়াকে মূল্য দিতেন| তাদের সময়ে মানুষ অনেকটা শান্তিতেই ছিল| কিন্তু সুদূর দক্ষিণাত্য থেকে আগত সেন শাসকগণ বাংলার মানুষের চাওয়া পাওয়ার প্রতি ততটা গুরুত্ব দিতে না পারায় তাদের উপরে দিনের পর দিন বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়তে থাকে এদেশবাসী| একদিকে বৌদ্ধ ধর্মীয় পাল রাজাদের শাসন নীতি যেমন ছিল উদার ও মানবিক, বিপরীতে সেন শাসকদের শাসন নীতি ছিল অনুদার, সঙ্কীর্ণ ও দমনমূলক| অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ঠাঁই পেয়ে যান সুফিদের খানকাহয়| সুফিদের সাফল্যে তৎকালীন তুর্কি যােদ্ধারাও অনুপ্রাণিত হতে থাকেন| ইতিহাসের একটু পেছনের দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের পর ভারতের হিন্দু সমাজ নিভু নিভু অবস্থায় কোনাে রকম টিকে ছিল| 

শ্রী চৈতন্যদেব যখন শাস্ত্রচর্চায় আমজনতাকে অধিকার প্রদান করেন তখনাে তাঁর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ সমাজ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে|বরঞ্চ সেন শাসনে অত্যাচারিত জনগণ নতুন একটি শাসকগােষ্ঠীর আগমনের পর তাদের আচরণ পরীক্ষা করার সুযােগই যেন নিতে চাইছিল| এই সেন মদদপুষ্ট ব্রাহ্মণরা শুধু ধর্মীয় আর সামাজিক বিধিনিষেধ আরােপ করেই তাদের কাজে ক্ষান্ত দেয়নি বরং মানুষের জীবন যাত্রায় সরাসরি নাক গলিয়ে তাদের সামাজিক জীবনের পাশাপাশি রাতের ঘুম দিনের স্বস্তিটুকু কেড়ে নিতেই যেন বদ্ধপরিকর হয়েছিল| ইতিহাসের সূত্র থেকে পাওয়া যায় সাধারণ হিন্দুদের সহায় সম্পত্তি গ্রাস করা এমনি তাদের হত্যা করলেও ব্রাহ্মণগণ বিচারের আওতায় আসতেন না| 

শেক শুভােদয়ার সূত্র থেকে অত্যাচারী লক্ষণসেনের শাসনামলে তার স্ত্রী বল-ভা আর তার শ্যলক কুমার দত্ত কর্তৃক সাধারণ মানুষের প্রতি নির্মম আচরণের কথা জানা যায়| পাশাপাশি বল-লি সেনের তান্ত্রিক মতবাদের প্রতি অধিক গুরুত্ব আরােপ আর কৌলিণ্য প্রথা জনগণ ও রাজশক্তিকে অনেকটাই বিপরীতমুখী অবস্থানে এসে দাঁড় করায়| এই শ্রেণীভেদ ইসলাম বিস্তারের জন্য একটি পটভূমি রচনা করে যার উপরে দাঁড়িয়েই ধর্ম প্রচার করেছিলেন সুফি সাধকরা|করতে গিয়ে দেখা গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাধা, ধর্ম পালনে নানাবিধ বিধিনিষেধ আর সমাজে লাঞ্ছনার পাশাপাশি সামন্তবাদী অর্থনীতি নিম্ন শ্রেণির মানুষকে আর্থিকভাবেও সর্বশান্ত করতে থাকে| জনমনে বিভ্রান্তির ঠিক এই সময়েই আগমন ঘটতে থাকে সুফি সাধকদের|এর একটি সুফিয়ানা তরিকা আর অন্যটি তুর্কানা তরিকা| 

সুফিয়ানা তরিকা হচ্ছে সুফিসাধক কর্তৃক আল-হির প্রেমবাণী প্রচার করে ইসলামের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা| অন্যদিকে তুর্কানা তরিকা হচ্ছে তুর্কি যােদ্ধাদের ধর্ম প্রচারে বল প্রয়ােগ করা| বাংলায় মূলত সুফিয়ানা তরিকার মাধ্যমেই ইসলাম ধর্ম প্রচারিত হয়েছে|শতকের শুরুর দিকে ভারতের রাজদণ্ড মুসলমান শাসকদের হাতে চলে আসলে তাঁরা বিভিন্ন দূরবর্তী প্রদেশ দখল করার চেষ্টা করতে থাকেন| তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে মুহাম্মদ বিন সাম বা মুহাম্মদ ঘােরীর সেনাপতি বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করেন| তাঁর নদীয়া আক্রমণ ও লক্ষণ সেনের পরাজয়কে দেশের প্রচলিত ইতিহাসে বখতিয়ার খলজীর বাংলা বিজয় বলা হলেও একে বাংলা বিজয় বলাটা একদমই ঠিক হবে

| কারণ তাঁর নদীয়া ও লখনৌতি বিজয় পশ্চিম ও উত্তর বাংলার কিয়দংশই জয় করা| বাংলার বাকী অংশে সেন রাজা ও স্থানীয় হিন্দু রাজাদের ক্ষমতাই প্রতিষ্ঠিত ছিল| বখতিয়ারের নদীয়া বিজয়ের তারিখ ও শাসক হিসেবে তাঁর মর্যাদা জানার সুযােগ

Leave a Comment